৭০ বছরেও ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভাতা!

প্রকাশিত: ১১:২৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১
শেয়ার করুন

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মালামা অলমিক (৭০), কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের এক নারী চা শ্রমিক। বয়সের ভারে না পারেন উঠতে, না বসতে। মৃত্যুর দিন গোনা ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই। ৭০ বছর হয়ে গেলেও তার ভাগ্য জোটেনি এখনো সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা। বি ত রয়েছেন বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্ত ভাতাসহ অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে।

Advertise

মালামা অলমিক এক সময় দাপিয়ে কাজ করেছেন কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের কালিটিতে অবস্থিত চা গবেষণা উপ-কেন্দ্রে স্থায়ী শ্রমিক হয়ে। স্বামী ও এক ছেলে সন্তান নিয়ে জীবন-সংগ্রামে কঠোর শ্রমের বিনিময়ে চলছিলো তার সংসার। আচমকা একটা ঝড় এসে সব তছনছ করে দেয় মালামার সংসার। বিয়ের একযুগ পর স্বামী লাতানা অলমিক ঘর থেকে বের হয়ে চলে যায়, সেই সাথে ছেলেও। আর তাদের খোঁজ মেলেনি। তারা জীবিত না মৃত সেটা তিনিও জানেন না। মালঅমা ভবিষ্যৎ তহবিলের টাকা (এক লাখ) উত্তোলন করে গত বছর অবসর নেন।

Advertise

কালিটি চা বাগানের জংলী লাইনে ভাতিজা শংকর অলমিকের ঘরে এখন মালামা অলমিকের অবস্থান। তারও মা-বাবা নেই। মানসিক অসুস্থতা নিয়ে ৫-৬ মাস ধরে শংকর সেবা করে যাচ্ছেন মালামা অলমিকের। সারাজীবন খেঁটেখুঁটে পাওয়া ভবিষ্যতের সামান্য টাকাও শেষ। আত্মীয়-স্বজন সবাই ছিলো, এখন ভাতিজা শংকরই তার একমাত্র ভরসা। বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বি ত মালামা অলমিক।

Advertise

স্থানীয় ইউপি সদস্য লসমি নারায়ন অলমিক বলেন, মালামা অলমিক আমার নিকটাত্মীয় হন। আর্থিক সমস্যা থাকার কারণে তার যথাযথ চিকিৎসা করানো যায়নি। তবে মাঝে-মধ্যে আমরা বাগানের অনেকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছি। আশা করছি, উন্নত চিকিৎসা করলে হয়তো মালামা অলমিক আবারো সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার আর্থিক সমস্যার বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এখনো মালামা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বি ত রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু জেনেছি ওই মহিলার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেব। তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সরকারি ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Advertise


বিজ্ঞাপন