শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি ও শিক্ষা প্রশাসনের অজ্ঞতা

প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০
শেয়ার করুন

বাংলাদেশের শিক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর ধরণসমূহ হলো প্রি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই সব প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি, বেসরকারি ও প্রাইভেটভাবে পরিচালিত হয়। সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই বেশী।

Advertise

যেসকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের সরকার বেতন দেয় এরা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। আর যেসকল প্রতিষ্ঠান সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদন ও স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে আছে কিন্তু সরকার অন্যায়ভাবে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন দেয় না এরা নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। আর যেসকল প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ও স্বীকৃতির সময় এমপিও না নেয়ার শর্তে গড়ে উঠে এরা হলো প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

Advertise

করোনার এই মহামারী পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য প্রণোদনা দেয়ার চিন্তা করছেন এবং কিছু পদক্ষেপও ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে। এর জন্য স্বাধীনতা নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন এর পক্ষ থেকে শিক্ষা বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

Advertise

প্রণোদনার পদক্ষেপ দেখে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে শিক্ষা প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাগণ নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী ও প্রাইভেট শিক্ষক কর্মচারী সম্পর্কে অবগত নন। আমার এতক্ষণের লিখা পড়লে অনেকে ধারণা করতে পারে আমি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের প্রণোদনা না দেয়ার জন্য বলছি। আসলে তা নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইলে দেশের সকল নাগরিককে প্রণোদনা দিতে পারেন তাতে কারো আপত্তি করার কিছু নাই, আমিও আপত্তি করছি না। আপত্তি শুধু নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে সকলকে একত্র করা নিয়ে।

সরকার সর্বশেষ ২৭৩০ টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জন্য তালিকা প্রকাশ করে এমপিওভূক্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। শিক্ষা প্রশাসনের অদক্ষতার কারণে কি ২৭৩০ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয় নাইতো? দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামে এতো প্রতিষ্ঠান নন এমপিওভুক্ত আছে তা বুঝতে পারিনি – এইজন্যই সন্দেহ।

প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কিন্তু তালিকায় দেখা যাচ্ছে পার্টটাইম শিক্ষকরাও নন এমপিওভুক্ত। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ পর্যায়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী অধ্যক্ষ একজন, প্রত্যেক বিষয়ে একজন করে শিক্ষক, প্রতি ব্যবহারিক বিষয়ে একজন করে প্রদর্শক, শরীরচর্চা শিক্ষক একজন, সহকারী লাইব্রেরীয়ান ও ক্যাটালগার একজন, অফিস সহকারী তিনজন, প্রতি ব্যবহারিক বিষয়ে একজন করে ল্যাব সহায়ক, অফিস সহায়ক পাঁচজন। এর ব্যতিক্রম হলে এবং অতিরিক্ত জনবল থাকলে তারা কখনও এমপিওভুক্ত হতে পারবে না। প্রণোদনার তালিকায় অনেক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে প্রতি বিষয়ে একাধিক শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে প্যাটার্ন বহির্ভুত কর্মচারীকে নন এমপিওভুক্ত দেখিয়েছেন শিক্ষা প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাগণ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়ের সবিনয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সঠিক নন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে স্বীকৃতি প্রাপ্ত সকল নন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একযোগে এমপিওভুক্ত করুন।

লেখকঃ
মাসুদুল হাসান আরিফ
অধ্যক্ষ
ডিকেজিএস ইউনাইটেড কলেজ
ময়মনসিংহ

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
স্বাধীনতা নন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন

Advertise


বিজ্ঞাপন