শাকিব-নাঈম এখন শুধুই স্মৃতি!

প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৯

নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার লামছড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই মেধাবী ছাত্র শাকিব মিয়া নাঈম মিয়া। প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শাকিবের বয়স ৭ বছর এবং নাঈমের ৬ বছর। দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করে মা-বাবারা অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করে আসছিলেন তাদের সন্তানদের।

ভাই আমাদের ছেলেদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আল্লাহ সেই স্বপ্ন পূরণ করলো না। বুক চাপড়ে কান্নামাখা বিলাপে কথাগুলো বলছিলেন পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শাকিবের বাবা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের পুটিকা গ্রামের আবু ছিদ্দিক ও একই গ্রামের নাঈমের বাবা মোজাম্মেল হক।

- Advertisement -

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২০ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার বাদেপুটিকা গ্রামে।প্রতিদিনের ন্যায় দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় হেকিম মিয়ার পুকুরে গোসল করতে নামলে পানিতে ডুবে শাকিব-নাঈমের মর্মান্তিক মৃত্যু। সন্তানদের অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাদের মা-বাবারা। আশা ও স্বপ্ন পূরণে বুক বেধে ছিলেন পিতাগণ কিন্তু সেই আশা ও স্বপ্ন পূরণ হলো না। শাকিব-নাঈম যেন এখন শুধুই স্মৃতি।

শাকিবকে নিয়ে অনেক বড় আশা ছিল বাবা কৃষি শ্রমিক আবু সিদ্দিকের। ৪ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছেলে ছিল শাকিব। পরিবারের অন্যদের চেয়ে অনেক মেধাবী ছিল সে। সকালে মাদরাসায় মকতবে যেত এবং মকতব শেষে স্কুলে যেত। বাবা-মার অনেক স্বপ্ন ছিল ছেলেকে নিয়ে। শাকিব দেশসেরা আলেম হবে। আবদার করে বাবার কাছে পাঞ্জাবি-পায়জামা চেয়েছিল, পরিধান করা হয়নি বাবা দেয়া তার সেই পোশাক। এর আগেই এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নিতে হলো শাকিবের। গত ২০ নভেম্বর দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়িতে ফেরার পথে বাদেপুটিকা গ্রামের হেকিম মিয়ার পুকুরে গোসল করতে নামার পর জীবিত বাড়ি ফেরা হলো শাকিবের। পুকুরের পানিতে ডুবে লাশ হয়ে ভেসে ফিরতে হলো তাকে।

অপর দিকে, নাঈমের বাবা মোজাম্মেল হক পেশায় একজন ইটখোলার শ্রমিক। বিয়ের দীর্ঘ পাঁচ বছর কান্নাকাটির পর আল্লাহর রহমতে নাঈম মায়ের কুলে আসলো। ৩ ছেলে-মেয়ের মধ্যে একমাত্র বড় ছেলে নাঈম। বাবার অনেক আশা ছিল, ছেলে ‘বড় সাহেব’ হবে। এলাকায় বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু শ্রমিক মোজাম্মেলের স্বপ্ন কেড়ে নিল পুকুর নামের ঘাতক।

সারাদিন ঘোরাঘুরি, খেলাধুলা করত, গায়ের মানুষ তাকে খুব ভালোবাসতো। নাঈম অনেক গুণের অধিকারী ছিল। গান গাওয়া ও খেলাধুলায় বেশ পারদর্শি ছিল। গত ১৯ নভেম্বর নানির সাথে ধান সিন্ধের সময় মধুর কণ্ঠে গান গাইছিল নাঈম। স্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন পুরষ্কার পেয়েছিল। যা এখন শুধুই স্মৃতি।

এই স্মৃতি আগলে বাবা মায়েদের কান্না যেন আর থামছে না। তাদের দুই পরিবারের করুণ পরিস্থিতিতে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরাও কাঁদতে লাগলো। সেই শোকের মাতম এলাকাসীকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে।