সকাল ১০:৪৯ | ২১ জুন, ২০২১ | ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ | ১০ জিলকদ, ১৪৪২

মেমানিয়া ইউনিয়নে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি?

আনোয়ার হোসেন মন্ডল

প্রধান বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২১
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে আগামী ১১ এপ্রিল। তার মধ্যে মেমানিয়া ইউনিয়ন অন্যতম।

Advertise

এলক্ষ্যে একাধিক প্রার্থী নৌকার নমিনেশনের পেছনে ছুটছেন। নিয়মিত যোগাযোগ করে চলেছেন কেন্দ্রের সাথে। অনেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বড় বড় নেতাদের কাছে। প্রার্থীদের অনেকেই মনে করছেন দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে জয়লাভ করা অনেকটাই সহজ। তাই এসব প্রার্থীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন দলীয় মনোনয়ন অর্জনে। মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা গ্রাম-ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা, শিক্ষা, ক্রীড়া, সমাজসেবা, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন। এদিকে দলীয় মনোনয়ন অর্জনের জন্য প্রার্থীরা তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন এ নিয়েও চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। তবে প্রার্থীদের কেউই থেমে নেই মাঠ পর্যায়ে তাদের ভোট ব্যাংক বাড়াতে। বিশেষ করে গ্রামীণ পাড়া মহল্লার চা স্টল গুলোতে ইতিমধ্যে নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। অনেকেই তাদের পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ে হোঁচট খাচ্ছেন আবার অনেকেই দলীয় প্রার্থীকেই ভোট দিবেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও তাদের পছন্দের প্রার্থী যদি দলীয় প্রতীকের না হয় তবে তারা স্বতন্ত্র থেকে তাদের প্রার্থীকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করবেন বলেও জানা গেছে।

Advertise

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি, সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রস্তাব কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবেন।

Advertise

এবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৩ জন প্রার্থী। এরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাষ্টার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন হাওলাদার, আওয়ামীলীগ নেতা হাসান মাহমুদ মৃধা ও মেমানিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ অলিউদ্দিন তালুকদার। এ তিনজনের মধ্যে শেষতক কার ভাগ্যে জুটবে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সময়ই বলে দেবে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন তিনি সৎ শিক্ষিত ও মেধাবী। দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো তার সময়ে রাস্তা, ব্রিজসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এবং তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। তাছাড়া, বিগত সময়ের চেয়ারম্যান থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা অনেকটা সহজ ছিল। যেহেতু তিনি পেশায় একজন শিক্ষক এবং তার কর্মস্থল এই ইউনিয়নের ভিতরে থাকায় সর্বদাই জনগন পাশে পেয়েছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারী সময় অতি তাড়াতাড়ি সেবা পৌঁছে দিয়েছেন জনগণের দোরগোড়ায়। তার বিরুদ্ধে অন্যায় অনিয়ম বা কোনো দুর্নীতির সাথে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন পেতে শতভাগ এগিয়ে থাকবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ডা. অলিউদ্দিন তালুকদারও দলীয় মনোনয়ে মাঠচষে বেড়াচ্ছেন। তিনিও সৎ ও শিক্ষিত। তার বাবা হাজী আব্দুল করিম মাষ্টার এর আগে ইউপি চেয়ারম্যান ছিল। তবে, তার বিরুদ্ধে দল পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি এবং ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চরমোনাইর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ২০১২ সালে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আসেন।

অন্যদিকে, মনোনয়ন পেতে চাচ্ছেন রাজধানীর উত্তরার আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ও সেভ গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ মৃধা। যোগ্য সংগঠক হিসেবে তার বিকল্প কোন প্রার্থী নেই মনে করছেন অনেকে। অধিকাংশ প্রার্থীই প্রবেশিকা ( এসএসসি) পাশ করা থাকলেও শিক্ষায় একমাত্র হাসান মাহমুদ মৃধাই সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী। তার ব্যাচলর অব ‘ল’তে ( এলএলবি) অনার্সসহ কয়েকটি প্রফেশনাল ডিগ্রী রয়েছে। তবে, রাজধানীতে থাকার কারনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকায় আসবেন কিনা এনিয়ে জনমনে সংশয় বিরাজ করছে। তাছাড়া, তার দুই ভাই তাহের মৃধা ও মোতালেব মৃধা উত্তরা বিএনপির যুবদলের পদধারী নেতা এবং বিভিন্ন মামলা-হামলার সাথে জড়িত। তবে, তার আরেক ভাই আবুল খায়ের মৃধা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আছেন। তার পরিবারে বিভিন্ন রাজনীতির যোগসাজোশ থাকায় দলীয় মনোনয়নে তিনি কতটা এগিয়ে থাকবেন তা নিয়ে প্রশ্ন জনমনে।

মনোনয়ন পেলে জনগণের প্রত্যাশা পূরনে তিনি কতটুকু কাজ করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমি বিগত দিনে ন্যায়-নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। কোন অন্যায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে আমি নিজেকে জড়াই নি।
আমি নিজের সবটুকু দিয়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করেছি। দল যদি এবার আমাকে নমিনেশন দেয় তাহলে এবারও আমি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবো। এবং আমার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবো ইনশাআল্লাহ।

এদিকে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. অলিউদ্দিন তালুকদার বলেন, আমার পুরো পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার কোন প্রমাণ দিতে পারলে আমার মনোনয়নের দরকার নেই এমনকি ওই সময় আমরা ৪ টি মাছের ঘের নিয়ে লুটপাট করে বিএনপির নেতারা। তাছাড়া আমার পুরো পরিবার ধর্মভীরু তাই বলে আমি চরমোনাই করি এমনটা নয়। আমার বাবাও এর আগে মেমানিয়ার চেয়ারম্যান ছিল। আমি মনোনয়ন পেলে জনগণের জন্য কাজ করবো।

আওয়ামীলীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী হাসান মাহমুদ মৃধার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, হিজলা উপজেলার ৪ ইউনিয়নে (হরিনাথপুর, মেমানিয়া, গুয়াবাড়িয়া ও বড়জালিয়া) আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শিগগিরই দলীয় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন মিটিংয়ের আগে এ সংক্রান্ত দলীয় চিঠি পাবেন নৌকা প্রত্যাশীরা। বৃহস্পতি (১১ মার্চ) রাজধানী ঢাকায় দলটির মনোনয়ন বোর্ডের এক বৈঠকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

Advertise

এই বিভাগের সর্বশেষ