সকাল ৯:৫৭ | ২১ জুন, ২০২১ | ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ | ১০ জিলকদ, ১৪৪২

মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর সুপারের অভিযোগ!

মোঃ আব্দুল কুদ্দুস

কুলাউড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:০৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০
শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল হযরত খন্দকার (রঃ) দাখিল মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ করেছেন মাদরাসার সুপার মাও. মাহতাবুর রহমান।

Advertise

গত ২৮ ডিসেম্বর ইউএনও বরাবর দায়েরকৃত অভিযোগের অনুলিপি কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও তিনি দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে তিনি ম্যানেজিং কমিটির ওই সদস্যের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফেরত পেতে প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেন।

Advertise

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বর্তমান সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বরমচাল হযরত খন্দকার (রঃ) দাখিল মাদরাসা এমপিওভূক্ত হয়। শিক্ষকদের এমপিওভূক্তির লক্ষ্যে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে গত বছরের ১৩ অক্টোবর ম্যানেজিং কমিটির এক সভা আহবান করা হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২০০০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাদরাসার যাবতীয় নোটিশ খাতা, রেজুলেশন খাতা, নিয়োগসংক্রান্ত ও অন্যান্য জরুরী কাগজপত্র কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য আব্দুল মোহিত সবুজের কাছে সমজিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় এমপিওভূক্তির কাজে শিক্ষানুরাগী ওই সদস্যকে সহযোগিতা করতে ভারপ্রাপ্ত সুপার মাও. মাহতাবুর রহমানকেও অনুরোধ করা হয়। তাছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধনপূর্বক শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিওভূক্তকরণের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে পুনরায় উক্ত কাগজপত্র সুপার বরাবরে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোন কাগজপত্র তিনি সুপারের কাছে জমা দেননি।

Advertise

মাদরাসা সুপার মাও. মাহতাবুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি তিনি ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব পান যা অদ্যাবদি পালন করছেন। বর্তমানে মাদরাসা শিক্ষক, কর্মচারী এমপিওভূক্ত হয়েছে। তৎকালীন সময়ে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এমপিওভূক্তির জন্য যাবতীয় কাগজপত্র কমিটির অভিজ্ঞ শিক্ষানুরাগী সদস্য আব্দুল মোহিত সবুজের কাছে দেওয়া হয়।

এমপিওভূক্তির পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সুপারের কাছে ফেরত দিতেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু শিক্ষানুরাগী সদস্য আব্দুল মোহিত সবুজের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি তা ফেরত দেননি। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যগণকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়ে। সুপার আরো জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফেরত দিতে সভাপতি সাহেব আমাকে আশ^স্থ করলেও এখন পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়নি।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এমপিওভূক্তির জন্য এমইএমআইএস কর্তৃক প্রদত্ত মাদরাসার একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড রয়েছে। ওই ইউজার আইডি ও গোপন পাসওয়ার্ডটি তিনি তার কাছে রেখেছেন। এক্ষেত্রে তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। বারবার অনুরোধের পরও তিনি প্রতিষ্ঠানের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দেননি। ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তার কাছে থাকায় মাদরাসা অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কোন তথ্যই পাওয়া যাচ্ছেনা। এমনকি প্রয়োজনীয় তথ্য তার কাছে এলেও তিনি কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেননা। এতে মাদরাসার প্রশাসনিক কাজসহ জরুরী সকল কাজে বিঘœ ঘটছে।

মাদরাসার সুপার আরো জানান, সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত পাল্টা বিজ্ঞপ্তির সংবাদ উত্তরপূর্বসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশের জের ধরে আব্দুল মোহিত সবুজ আমার সাথে অশোভন আচরণ করছেন। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

আনীত অভিযোগ সম্পর্কে মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য আব্দুল মোহিত সবুজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নাম্বারে (০১৭৬৭-৭৯৪২৪০ ও ০১৭২৭-১১১৯১৩) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, ভারপ্রাপ্ত সুপারের একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমি শীঘ্রই বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বাআ/এসএ

Advertise

এই বিভাগের সর্বশেষ