ভোলার সদর হাসপাতাল এখন দালাল ও খপ্পরবাজদের দখলের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২১
ভোলা সদর হাসপাতালে দালাল ও প্রতারক খপ্পরে পড়ে হয়রানি হচ্ছে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।গত কয়েক মাস ধরে হাসপাতালে দালালদের উৎপাতে গরীব ও অসহায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ডাক্তার ঔষুধ লিখে দেওয়া মাত্র রোগীদের কাছ থেকে কৌশলে ঔষুধের পিকচিপশন  ছিনিয়ে নিয়ে দালালদের নির্ধারিত দোকান থেকে ঔষুধ বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করছেন দালালরা।
দালালদের এইসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা নেই বলে চলে।রোগীর স্বজনরা জানান, আমরা রোগী নিয়েই আসলেই অনেক জনে এসে বলে আমরা অমুক ডাক্তারের সাথে থাকি অমুক ডাক্তারের সাথে এই ওই করি এবং সিলিপ নিয়ে যায় সিলিপ ধরিয়ে দিয়ে ৬ টাকার ঔষুধ ১০ টাকা নেন।
আরেকজন রোগীর স্বজনরা জানান, সকালে রোগী নিয়ে এসেছি ডাক্তার দেখিয়ে সিলিপ নিয়েছি এক লোক এসে কাড়াকাড়ি করে এবং তাদের জন্য ঔষুধ নেওয়া যায় না এবং তাকাও ডাবল নেন বলে জানান।
অন্য আরেক রোগীর স্বজন জানান, ঔষুধ নিয়ে এসেছি ডাক্তার ঔষুধ লিখে দিয়েছে কিন্তু দালালদের খপ্পরে পড়ে ঔষুধ কিনতে হয় বেশি  দামে এবং তিনি ভোলা জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন ভোলা সদর হাসপাতাল যেন দালাল দের হাত থেকে রক্ষা করে।
বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা ভোলা এই দ্বীপের ২০ লক্ষ মানুষের একমাত্র ভরসা ভোলা সদর হাসপাতাল চিকিৎসকদের তথ্যমতে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রত্যেকদিন দূর-দূরান্ত থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল থেকে ২২জন চিকিৎসকের পথ থাকলেও ১৪ জন পথ শূন্য রয়েছে  সংকেত জনপদ ডাক্তার না থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের সামাল দিতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আর এইসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভালো  মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দালালরা।
কয়েকটি দালালচক্র সদর হাসপাতালে বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে রোগীদের হয়রানি করেছেন বলে জানা যায়।
মাঝে মাঝে ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে ঔষুধ আনার নাম করে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় এইসব দালালরা।
ডাক্তার ইমারজেন্সি থেকে  পিকচিপশন লিখে দিলে হাসপাতাল পরিচয় দিয়ে ঔষুধ এনে দেওয়ার নাম করে পিচকিশন হাতিয়ে নেন এমন অভিযোগও রয়েছে। ঔষুধ এনে দিয়ে নিষিদ্ধ মূল্যের দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকা আদায় করে আর সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং দালালদের দুর্ব্যবহার শিকার হন সাধারণ রোগীরা।
এমনকি দালালদের টাকা দিলে নাকি ভাল সিট পাওয়া যায়।অন্য সিট না পেয়ে থাকতে হয় হাসপাতালের মেঝেতে সাধারণ রোগীদের।
হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম জানান বহুদিন ধরে দালালদের চক্করে হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভিন্ন হয়রানি করে আসছেন তবে এই হাসপাতাল তুলনায় দালালে পাশাপাশি দালালমুক্ত স্বাস্থ্য সেবা নিষিদ্ধ করতে  ব্যবস্থাপন উন্নয়ন কমিটির সভায় আলোচনা করে বিভিন্ন দালালদের উৎপাতে অনেক আগ থেকে  কাজ চলতেছে মাঝে মাঝে বেড়ে যাচ্ছে এই ব্যাপারে আমরা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।
পরে নিয়মিত ভাবে আমরা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে এইখানে তাদেরকে ধরার ব্যবস্থা করেছি। বারবার যখন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় তখন চলে যায় তারপর আস্তে আস্তে ঢুকে যায় আমরা সামনের দিকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিব যাতে দালালরা এই হাসপাতালে কোন স্থানে প্রবেশ করতে না পারে।