পূর্বধলার হিরণপুরে বৌলাম-শিমুলকান্দি সড়কের বেহাল দশা

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীমঃ বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম হাতিয়ার হলো অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়ন। উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দিনকে দিন। কিন্তু এখনো এমন কিছু যায়গা রয়েছে যেখানে পৌছেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক অধক্ষ্যতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ঔদাসিন্যতাকেই দায়ী করছে জনগণ।

- Advertisement -

থেমনি এক অবহেলিত জনপদ হলো নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলাধীন ১০ নারান্দিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের একমাত্র ভরসা বৌলাম-শিমুলকান্দি রাস্তা।

১৯৮৯ সালে উপজেলার হিরণপুর বাজারের পূর্বদিকে বৌলাম-শিমুলকান্দি রাস্তার বৌলাম থেকে শ্রীপুর উত্তর পাড়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার মাটির রাস্তা নির্মাণ করেন ততকালীন চেয়ারম্যান।

এলাকাবাসী অবঃ সেনাকর্মকর্তা দুলাল তালুকদার বলেন, “দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে হয়নি রাস্তাটির সংস্কার। গত দশ-বারো বছর আগে এলজিইডি থেকে রাস্তায় মাটি ভরাট করে পুনঃসংস্কার করলেও বিগত বারো বছর ধরে রাস্তায় ১ কোদাল মাটিও দেয়া হয়নি।”

এমতাবস্থায় রাস্তাটি চলাচলের জন্য একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে, ১০/১২টি গ্রামের কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষের চলাচলের এই রাস্তাটিতে এখন বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, গেলো বছর কয়েকজন গ্রামবাসী রাস্তায় ধান গাছের ছাড়া রোপণ করে তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

রাস্তাটি এত জনগুরুত্বপূর্ণ যে, প্রতিদিন প্রায় হাজার ছাত্রছাত্রী স্কুল-কলেজ মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। এই রাস্তার জন্য ভুগানান্তি আছে বৌলাম, দুলচাপুর, খসখসিয়া, শ্রীপুর, রামকৃষ্ণপুর, চরপাড়া, লাইট, কছুডুয়ারী, বাহাদুর পুর, নিজামপুরসহ আরো অনেকগুলো গ্রাম।

এব্যাপারে বর্তমান মেম্বার আমছর আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাস্তাটি আমি ১৯৮৯ সালে যখন মেম্বার ছিলাম তখন তৈরি করেছিলাম, কিন্তু বর্তমানে এর সংস্কার বা পাকা করনের জন্য কোন বরাদ্দ পাইনি। কিন্তু শুনেছি ১ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার জন্য টেন্ডারের অপেক্ষায় আছে।”

অন্যদিকে ১০ নং নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুর রাশিদ তালুকদারের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাস্তা টেন্ডারের বিষয়ে আমি কিচ্ছু জানিনা, কর্মসূচির আওতায় মাটি কেটে গর্ত ভরাটের কথা বল্লে তিনি বলেন, বর্তমানে কোন কর্মসূচি নেই, ইউনিয়ন তহবিলের কথা বল্লে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কোন তহবিল নেই।”

এহেন অবস্থায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসী ও ছাত্রছাত্রীদের দাবী, রাস্তাটি বৌলাম থেকে মহেশকোনা ভায়া দুলচাপুর, খসখসিয়া, শ্রীপুর পর্যন্ত যেন পাকা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।