সর্বনাশ না চাইলে ঘুরে দাঁড়ান : মোমিন মেহেদী

প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৯

বাংলাদেশের রাজনীতিকে কখনোই দেশের মানুষ শান্তি বা সমৃদ্ধির জন্য নিবেদিত থাকতে দেখেনি। স্বাধীনতা অর্জনের পর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙলি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে এসে দেখেন নীতিভ্রষ্টতে দেশ ভরেছে; ছাত্র-যুব-জনতা তাদের হাতে জিম্মি; যাদের রাজনৈতিক কোন আদর্শ নেই। আছে ছলা-কলা আর রাজনীতির নামে অপরাজনীতি-দুর্নীতির কৌশলে লোভাতুর পথচলা। তিনি আওয়াজ তুললেন, বললেন- আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিবাজ মুক্ত করো।

আজ জাতি দেখছে ছলা-কলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে ছাত্রশিবির-জামায়াতের রাঘব বোয়ালরা। এরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের মত অবির সংগ্রাম করে চলা রাজনৈতিক বলয়ে বড় বড় পদ কিনে নিয়ে অনবরত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে চলছে আওয়ামী লীগ। সমালোচিত করছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙলি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

- Advertisement -

তারই পথ ধরে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল, এস এম জাকির, সভাপতি শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মত শত শত তৈরি হওয়া অন্ধকারের মানুষেরা রাজনীরি নামে নিলামে উঠিয়েছে ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্যকে-আদর্শকে। এই সুযোগে হুজুগে বাঙালির ভিপি নূরুও ফায়দা হাসিল করে নিচ্ছে। বিকেলে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ বলে, রাতের বেলা ঠিকাদারদের কাছ থেকে র্অনৈতিক সুবিধা, দিনের বেলা আওয়ামী লগের সমালোচনা করে গড়ে তুলছে অর্থ-বিত্ত- গোছাচ্ছে আখের। আর একের পর এক সুযোগ করে দিচ্ছে ছাত্রশিবির-স্বাধনতা বিরোধীদেরকে।

যে কারনে কেবল ভোলা বা রামু নয়, মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে সরকার ও ভারতবিরোধীদের সংগঠিত করার মাধ্যমে খোদ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ঘাঁটি গাড়তে চায় নিষিদ্ধ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী! কর্তৃপক্ষের ‘নির্লিপ্ততার’ সুযোগে অব্যাহত নির্বিঘেœ সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক পোস্টার, লিফলেট ও জিহাদী বইপত্র বিলি করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর। মধুর ক্যান্টিন থেকে ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে প্রশাসনের নাকের ডগায় উস্কানিমূলক এসব পোস্টার লাগানোর ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ। প্রশাসনের নীরবতা অন্যদিকে ছাত্রলীগবিরোধিতার নামে বাম ও কোটা সংস্কারপন্থী নেতারা কাছে টেনে নিচ্ছেন শিবির, ইসা ছাত্র আন্দোলনসহ উগ্রবাদীদের। প্রগতিশীল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলছেন, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা আর বাম ও কোটা সংস্থারপন্থীদের কর্মকান্ডের সুযোগ নিচ্ছে মৌলবাদীরা। উগ্রবাদীদের তৎপরতা বন্ধে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর অনৈক্যও সঙ্কটের একটা কারণ। তবে সিনেটে উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্ত হওয়ার প্রায় দুই মাসেও উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ায় প্রশাসনে সৃষ্ট অস্থিরতার সুযোগকেও সরকারবিরোধী মৌলবাদী গোষ্ঠী কাজে লাগাচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত উপাচার্য নিয়োগসহ প্রক্টরিয়াল টিমকে সক্রিয় করার তাগিদে জোরালো হচ্ছে। যতদূর জানতে পেরেছি- ঢাবিতে ছাত্র শিবিরের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ থাকলেও গোপনে তাদের তৎপরতা ছিল সব সময়েই। যখনই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কোন আন্দোলন হয় তখনই সেখানে কাজ করে শিবির। তবে গত এক দশকে ঢাবির আইবিএতে রীতিমতো ঘাঁটি গেড়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর। আইবিএ হচ্ছে এ জঙ্গী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টাদের সবচেয়ে বড় আস্তানা। আইবিএর একাধিক শিক্ষক এ অপরাধে গ্রেফতারও হয়েছেন বিভিন্ন সময়। আবার জামিন নিয়ে জঙ্গী তৎপরতায় যুক্ত হয়ে পড়েছেন এমন তথ্যও আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। তবে আগে থেকে এসব সংগঠনের তৎপরতা থাকলেও গত কয়েক মাসে ক্যাম্পাসে প্রগতিশীলদের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে উগ্রবাদীদের তৎপরতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত মসলিশের ছাত্র সংগঠনসহ সমমনা মৌলবাদী সংগঠনের প্রকাশ্য তৎপরতা। চরমোনাই পীরের মত তথাকথিত ধর্মীয় নেতাও সুযোগ বুঝে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টায় ব্যস্ত। অবশ্য সেই সাথে এই কথা বলতেই হচ্ছে যে, প্রায় তিন যুগ পর এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নিলে ক্যাম্পাসে নতুন করে মাথাচড়া দিয়ে ওঠে সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব সাম্প্রদায়িক সংগঠন নিষিদ্ধ। ’৯০ সালে পরিবেশ পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে এমন সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এবার ডাকসুর নির্বাচনের আগে সেই পরিবেশ পরিষদের সভা বসেছিল। সেখানে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোকে আলোচনায় বসার চিঠি না দিলেও ডাকসু নির্বাচনে অনেকটাই বৈধতা পেয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্রিয়তার অভাবে। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ডাকসু নির্বাচনে প্যানেল আকারে নির্বাচনেও অংশ নেয়। পরিবেশ পরিষদের সভার চিঠি না পেয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলও করেছিল ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনটি। অভিযোগ রয়েছে ডাকসু ভিপি কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূরকে কেন্দ্র করেই সক্রিয় হচ্ছে কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠন। ভিপি হওয়ার পর ক্যাম্পাসে কয়েকটি দাবিতে ওই সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি নূরকে।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র ফরিদ হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল ডাকসুর ভিপি। আন্দোলনে শরিক ছিল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন যারা ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষ করেই ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়। সাম্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বডিসহ প্রশাসনের ‘পরোক্ষ সহযোগিতা’র মনোভাব দেখে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন লক্ষ্য রেখে আরও অনেক সংগঠন সক্রিয় হচ্ছে। অনেক সংগঠন গোপনে ‘দাওয়াতী’ কার্যক্রম চালাচ্ছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ছাত্র খেলাফত বাংলাদেশ, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিশ, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে তালামীযে ইসলামিয়া, বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া ও বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন। এ বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাবি ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে ডাকসু। তবে এ ঘোষণা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি আজও। এ ঘোষণার পরেও হিযবুত তাহরীর ক্যাম্পাসের গভীর রাতে পোস্টার লাগাচ্ছে অহরহ। সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী সংগঠনগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচীও চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের পোস্টার, ব্যানারে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উস্কানিমূলক তথ্য থাকছে। এমনকি ডাকসুর সিদ্ধান্তে আপত্তিও তুলেছেন ভিপি নুরুল হক নুর। এই সুযোগে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর মধুর ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে গভীর রাতে পোস্টার লাগাচ্ছে। গত ৬ মাসে অন্তত ১৪ বার এসব পোস্টারে সরকারবিরোধী বক্তব্যসহ তাদের আদর্শিক ভাবধারার খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে। ডাকসুর নির্বাচন কেন্দ্র করেও ঢাবি ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছিল হিযবুত তাহরীর। বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙ্গে খিলাফত রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের আহবান জানাচ্ছে সংগঠনটি। প্রায় প্রতিটি পোস্টারেই জঙ্গী সংগঠনটি তাদের মতাদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার উৎখাতে সশস্ত্র বাহিনীকে উস্কানি দিচ্ছে! কর্মী সংগ্রহে কৌশলে বিতরণ করা হচ্ছে সংগঠনটির জঙ্গিবাদী নিজম্ব সংবিধান। কিছুদিনও আগেই রাতের আঁধারে মধুর ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন ভবনে পোস্টার লাগায় হিযবুত তাহরীর। তখন এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টির মধ্যে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসের ওই পোস্টার অপসারণ করা হয়েছিল। তবে এখন নতুন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের আশপাশের এলাকা নীলক্ষেত, পলাশীতে বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে হিযবুত তাহরীরের পোস্টার দেখা গেছে। এরা রাজনীতিকে কালোতে ঢেকে দিতে বিভিন্ন সময় ধর্মভীড়– মানুষের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলছে অন্ধকারের চাষাবাদের জন্য। সেই সূত্রতায় এবার পোস্টারে কাশ্মীর ইস্যুকে পুঁজি করে সরকারবিরোধী উস্কানি দেয়া হচ্ছে। বলা হয়েছে, ‘হাসিনা সরকারের ভারতের দালালীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। মুশরিক ভারতের দখলদারিত্ব থেকে কাশ্মীরকে মুক্ত করতে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ন’। অপর পোস্টারে ‘আসন্ন খিলাফত মুক্তির একমাত্র পথ’ শিরোনামে সরকারবিরোধী বিভিন্ন কথা লেখা রয়েছে। পোস্টারে ‘নির্বাচন জুলুমের শাসন’ উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, এতে জনগণের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন আনবে না।

অতিতেও আমি প্রচুর লিখেছি ছাত্রশিবির-জামায়াত-জঙ্গীদের রাজনীতি-অর্থনীতি নিয়ে। এখনো লিখছি। যে কারণে নতুনধারার রাজনীতিক হিসেবে, নগণ্য কলাম লেখক হিসেবে বহু শত্রু তৈরি হয়েছে আমার। তবু বলে যাই লিখে যাই। জানি এ লেখায় আমূল পরিবর্তন হবে না। নূরুদের চরিত্র পরিবর্তন হবে না। বরং ওরা আরো ভয়ংকরভাবে ব্যক্তি আমাকে শেষ করে দিতে উঠে পড়ে লেগে যাবে। যেভাবে ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ কেেক ২৫ মার্চ আমাকে চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে চালিয়েছে বর্বরোচিত নির্যাতন; সেভাবে আবারো ঝাপিয়ে পড়তে পারে। এবার গুমও করে দিতে পারে আমাকে, আমার পরিবারের একমাত্র সদস্য সহধর্মিনী শান্তা ফারজানকে। তবু বলবো, বলেই যাবো সাহসের কথা, সত্যের কথা। লিখে যাবো সাহসে-সংগ্রাম।

আমার কাছে মনে হয়- শর্ষের ভেতর ভূতের বসবাস হওয়ার কারণে সরকারের মন্ত্রী পরিষদে, সংসদের সদস্যদের মধ্যে, সচিবালয়ের আমলাদের মধ্যে যেমন নীতি বিবর্জিত কর্মকান্ড বাড়ছে; ১০০ টাকার বালিশ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, প্রক্টরিয়াল টিম সহ বিভিন্ন স্তরে স্বাধীনতা বিরোধীরা ঘুপটি মেরে আছে। হয়তো একারণেই স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের সমর্থকদের পোস্টার লাগানো বন্ধ করা কিংবা এসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী জড়িত আছে কি না তার কোন হদিস বের করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল প্রক্টরিয়াল বডি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি থাকতে কিভাবে অব্যাহত জঙ্গী সংগঠন ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগাচ্ছে? এই প্রশ্নের জন্ম হচ্ছে। আমি মনে করি- ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যে কাজ করা দরকার তা তারা করছে না। এখন প্রশ্ন একটাই- যখন পোস্টার লাগায় তখন এত বড় প্রক্টরিয়াল টিম কোথায় থাকে?

আলোচিত ইস্যুগুলোতে সরকারবিরোধী ও খিলাফত প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠায় হিযবুত তাহরীরসহ জঙ্গী সংগঠনগুলো। কাশ্মীর ইস্যুতে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, ‘কাশ্মীরের জনগণ মুসলিম উম্মাহর অবিচ্ছেদ্য অংশ!! হাসিনা সরকারের ভারতের দালালীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’ আরেক বার্তায় বলা হয়, ‘হে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ! ছাত্রলীগের সকল অপকর্মের মদদদাতা যালিম হাসিনা।’ এসব বার্তার সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য ওয়েবসাইট কিংবা ভিডিও লিংক দিয়ে দেয় অজ্ঞাত নম্বর থেকে। আরেক বার্তায় তরুণদের সাহসী, সচেতন ও নিষ্ঠাবান সম্বোধন করে বলা হয়, ‘বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের অযোগ্য, এর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে খিলাফতে রাশিদা পুনর্প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যোগ দিন’। ঠিক এমন এক অবস্থার মধ্যেই উগ্র-মৌলবাদীদের তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বসে থাকলেই হবে না; নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে; বাংলাদেশকে ভালোবেসে সাহসের সাথে কথা বলতে হবে। যদিও ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান নিরব ভূমিকা পালন করছেন, নিরব রয়েছে ছাত্রলীগ নেতারা; কিনউ পথে আছে, পত্রিকায় আছে নতুন প্রজন্মের রাজনীতি সচেতন নতুন প্রজন্ম।

আমি মনে করি- অসাম্প্রদায়িকতার আঁতুরঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে মৌলবাদীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরিরের পোস্টার লাগানো রয়েছে। সেই সঙ্গে হিযবুত তাহরীরসহ কিছু উগ্রপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠী প্রকাশ্যে ও গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। যদি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম এভাবে পরিচালিত হয় ও রাতের আঁধারে এভাবে পোস্টার লাগানো হয় তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি কি? আরও বলা হয়, সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের ‘অপরাজেয় দুর্গ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ চালু রয়েছে। এসব গ্রুপ হতে বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া রাষ্ট্রীয় ইস্যুতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানো হয়। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভোলার ইস্যুতেও সেখান থেকে গুজব ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এখানেও কোন নিয়ন্ত্রণ নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এসব বিষয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন। অতিসত্বর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোর এই অপতৎপরতা রুখে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তা না হলে অভিশপ্ত জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক প্রেতাত্মারা একাত্তরে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তৎপর হয়ে উঠবে। ইতিহাস বলে যে, ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহোরে “জামায়াতে ইসলামী হিন্দ” নামে দলটি প্রথম আত্বপ্রকাশ করে। মূলত ভারতবর্ষের কম্যুনিস্ট বিরোধী শক্তি হিসেবে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদীদের আশ্রয়ে এই দলটির জন্ম । বৃটিশ তাবেদার এই দলটি জন্মলগ্ন থেকেই ভারতবর্ষের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে। পরে এরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠারও তীব্র বিরোধীতা করেছিল। মওদূদী ফতোয়া দেন পাকিস্তান রাষ্ট প্রতিষ্ঠার দাবী করা সবাই, মুসলীম লীগ, জিন্নাহ এরা কেউই “খাটি মুসলিম” না । উল্লেখ্য ৭১ সালেও গণ হত্যার সময় “খাটি মুসলিম” তত্ব ব্যাবহার করেছিল দলটি । বঙ্গবন্ধু সহ স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীদের এরা ভারতীয় দালাল কাফের বলে ঘোষণা দেয়। ভন্ড জামায়াতে ইসলাম কখনই স্বাধীনতা বা গনতন্ত্রে বিশ্বাস রাখেনি। সকল সময়ই ইসলামকে ব্যাবহার করে সুবিধাবাদীর রাজনীতি করে গেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা আবু আলা মওদূদী বলেন-“গণতন্ত্র বিষাক্ত দুধের মাখনের মত” – মওদূদী, সিয়াসি কসমকস, তৃতীয় খন্ড, পৃঃ ১৭৭
“গণতন্ত্রএর মাধ্যমে কোনো সংসদ নির্বাচনে পার্থী হওয়া ইসলাম অনুযায়ী হারাম” – রাসায়েল ও মাসায়েল । লেখক মওদূদী । প্রথম সংঙ্করণ, পৃষ্ঠা ৪৫০।
মিথ্যাই যেই দলের মূল মন্ত্র সেই মিথ্যা সম্পর্কে মওদূদী বলেন- “সময়ে সময়ে মিথ্যা বলা শুধু জায়েজই নয় বরং অবশ্য কর্তব্য” আবুল আলা মওদূদী, তরজমানুল কোরআন, মে ১৯৫৮।
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে জামায়াত কখনই মেনে নেয়নাই। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে। হয়েছে আর্থিক ও রাজনৈতিক ভাবে অনেক শক্তিশালী। এর কৃতিত্ব অবশ্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়া ও বেগম জিয়ার উপরই বর্তায়। সাম্প্রতিক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে এই দলটি এখন আরো অনেক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দলটির বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলছে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংশ্লিষ্ঠতার। জঙ্গী সম্পর্ক অবশ্য তাদের নতুন কিছু নয় তবে এটি এখন প্রকাশ্য রূপ লাভ করেছে। আমি মনে করি যেহেতু বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা গুলো বলছে, দেশের জঙ্গী অর্থায়নের নেপথ্যে মদদ দিচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। আর আইএসআইর সহযোগী হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীর দল পাকিস্তানের পুরনো দোসর জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামী ব্যবসায়িক সংগঠনের মাধ্যমে বছরে নিট মুনাফা করে দেড় হাজার কোটি টাকা। নিট মুনাফার ৩ শতাধিক কোটি টাকা ব্যয় করে জঙ্গী, সন্ত্রাসী ও দলীয় কর্মকান্ডে। পাকিস্তান, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের বেসরকারী সংস্থার কাছ থেকে এই অর্থ পাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন ব্যক্তির নামে আছে বিভিন্ন ধরনের সহস্রাধিক ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই বিদেশ থেকে আসা টাকা পাচ্ছে জামায়াত। ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে যেসব টাকার লেনদেন হয়েছে তার বিরাট অংশ জঙ্গী অর্থায়ন হয়েছে এবং যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাধাগ্রস্ত করতে দেশে-বিদেশে লবিস্ট নিয়োগসহ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপ-প্রচারে ব্যয় করা হয়েছে। জামায়াতের জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের ৮০টি শাখায় যে বিরাট অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে সেই বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে জঙ্গী অর্থায়নের তদন্ত করে প্রমাণও পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা লঘু দন্ডের মতো। জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি, ওষুধ শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ট্রাস্টি, রিয়েল এস্টেট, ছাপাখানা, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, এনজিওসহ বিভিন্ন ধরনের সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে পাকিস্তান, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার কাছ থেকে আসা টাকার বিরাট অংশ পাচ্ছে জামায়াত। দেশের ভেতরে ব্যাপক জঙ্গী তৎপরতার বিষয়ে জামায়াতের অর্থায়ন, সহায়তা, ভূমিকা রাখার বিষয়ে গ্রেফতারকৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি, হুজি, হিযবুত তাহরীরসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় জঙ্গী নেতাদের দেয়া স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দীতেও এ ধরনের তথ্য রয়েছে। আমি মনে করি যেহেতু যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হওয়ার পর জামায়াত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বিরাট অঙ্কের টাকা ব্যয়ে লবিস্ট নিয়োগ করে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।এমনকি যুদ্ধাপরাধীর বিচার চলাকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছিল তুরস্ক থেকে আসা মুসলিম ব্রাদার হুডের কর্মকর্তারা। ডলারের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক মহলে জন্ম নিচ্ছে ক্যাডম্যানের মত দালালদের। সেহেতু তৈরি থাকতে হবে বাংলাদেশের রাজনীতিকে শুদ্ধ রাখতে; দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে। তা না হলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বাংলাদেশ। এই ক্ষতি চাই না আমরা কেউ।

ইতিহাস-ধর্ম-দেশ ও মানবিক বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের জন্য একটি অভিশাপ। দুঃখ হয় যখন জামায়াতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংশ্লিষ্ঠতার এত প্রমাণ থাকা সত্বেও এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে সরাকার দৃঢ় ভাবে কোন ব্যাবস্থা নিতে পারছেনা। ইসলামী ব্যাংকের জঙ্গী অর্থায়নের প্রমাণ মিললেও ব্যংকটির বিরুদ্ধে নাম মাত্র ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রশ্ন আসতেই পারে তবে কেন এই ধীর গতি? নিঃস্বন্দেহে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি দাড় করানো সরকারের একটি বড় সফলতা। তবে এই সফলতাকে ধরে রাখাটাই এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের জন্য এখন একটি বড় চেলেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই যদি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীর দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতকে নিষিদ্ধ ও এর আর্থিক সংগঠন গুলো বন্ধ করা না যায় তবে সত্যিই বাংলাদেশের কপালে অনেক দুঃখ আছে। বাংলাদেশ একদিন হয়ে উঠবে জঙ্গীদের ঘাটি। পাকিস্তানের মত এখানেও বোমার আঘাতে প্রতিদিন মরবে সাধারণ মানুষ। তখন আফসোস আক্ষেপ করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না বলে লোভ মোহহীন নিরন্তর রাজপথে কথা বলছি, লিখছি, চলছি সাহসের সাথে। আপনি যদি দুর্নীতি-জঙ্গীবাদ-ধর্মব্যবসা না চান, ঘুরে দাঁড়ান। আপনার একটু সময়, একটু সাহসী পদক্ষেপ প্রত্যয়ের সাথে পথ চলতে তৈরি করবে বাংলাশের স্বার্থ-গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে…

মোমিন মেহেদী : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি

mominmahadi@gmail.com

সাউন্ডবাংলা ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা ০১৭১২৭৪০০১৫