সকাল ১০:০৩ | ২১ জুন, ২০২১ | ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ | ১০ জিলকদ, ১৪৪২

গ্রামের বাতাসে লাশের গন্ধ, একসঙ্গে দাফন হলো পুরো পরিবার

আনোয়ার হোসেন মন্ডল

প্রধান বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২১
শেয়ার করুন

এ এলাকায় একসঙ্গে পাঁচজনের দাফন কখনো হয়নি। স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন গ্রামবাসী। এ যেন গ্রামের বাতাসে লাশের গন্ধ। চারপাশ থেকে শুধুই ভেসে আসছিল কান্না আর আহাজারি। জানাজা পড়তে আসা সবাই ছিলেন শোকে স্তব্ধ।

Advertise

সোমবার দুপুরে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের ফেচুয়ালঞ্জি গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একসঙ্গে পাঁচজনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। বাকি একজনকে (বোন) তার স্বামীর বাড়িতে দাফন করা হয়।

Advertise

জানাজায় পূর্বধলা উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ রাজু আহমেদ রাজ্জাক সরকার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম রুবেল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ মৌলভী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফয়জুর সিরাজ জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। পরে নিহতদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Advertise

একসঙ্গে দাফন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মাওলানা ফারুক মিয়া, তার স্ত্রী মাসুমা আক্তার, তাদের তিনদিন বয়সের নবজাতক শহিদুল্লাহ, নিহত ফারুকের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন, আরেক বড় ভাই আজিম উদ্দিনের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম।

অপরদিকে ফারুকের বড় বোন তামান্না আক্তার জুলেখাকে স্বামীর বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা গ্রামে দাফন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তার লাশ পুলিশের কাছ থেকে স্বামীর বাড়িতে নেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার মাওলানা ফারুকের স্ত্রী মাসুমার প্রসব ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে নেয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে স্বাভাবিকভাবে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি।

রোববার দুপুরে হাসপাতাল থেকে তারা ছাড়পত্র পেয়ে সিনএজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের অন্যরা। সিদ্ধান্ত ছিল বাড়ি ফিরে উৎসব করে শিশুর আকিকা দেয়া হবে। কিন্তু সে আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। অটোরিকশাটি নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের তারাকান্দা উপজেলার গাছতলা এলাকায় বিপরীত থেকে আসা শাহজালাল পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। পরে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি লাশগুলো উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

পূর্বধলার ইউএনও উম্মে কুলসুম বলেন, এরইমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রোববার রাতেই নিহতদের বাড়িতে গিয়ে ওই বরাদ্দ করা টাকা থেকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা নিহতের বড় ভাই আজিম উদ্দিনের হাতে তুলে দেয়া হয়।

পূর্বধলা উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, এ এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সামনে পাঁচটি লাশ একসঙ্গে। পরিবারের অবশিষ্ট কেউই বেঁচে নেই। এমন দৃশ্য এর আগে কেউ দেখেনি। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা নেই।

তিনি বলেন, এমন দুর্ঘটনা আর যেন না হয়। সবাই যেন সাবধানে গাড়ি চালান। প্রশাসন থেকে চালকের লাইসেন্স যাচাই করতে হবে।তবেই দুর্ঘটনা কিছুটা কমতে পারে।

BA/Anwar

Advertise

এই বিভাগের সর্বশেষ