কৃষিতে সৌর বিদ্যুতে সেচ : বাঁচবে ৩০ শতাংশ খরচ

প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১
শেয়ার করুন

কৃষিকাজে সেচের জন্য পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সৌরশক্তিকে সেচ কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে কৃষকের সেচ খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমবে বলে আশা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertise

এ জন্য ‘সৌর শক্তি ও পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি’ নামের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়িত হলে সেচ কাজে সৌরশক্তি ব্যবহার করে ৯৫ থেকে শতভাগ জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এছাড়া খামার পর্যায়ে আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেচ দক্ষতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ উন্নয়ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertise

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা  বলেন, ‘প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৬৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সেখান থেকে ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে এখন মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সেইসঙ্গে মেয়াদ বাড়ছে এক বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সাল পর্যন্ত। এজন্য প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

Advertise

সূত্র জানায়, এর আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কৃষি প্রকৌশল প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পটির সেচ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সেচ এলাকা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি, সেচ খরচ ৩০ শতাংশ কম এবং উৎপাদন ১৫ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই প্রকল্পটিতে সেচ কাজে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের কলাকৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সেচ কাজে পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার কৃষকদেরকে উৎসাহিত করার জন্য এই পাইলট প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাপলের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী বৃহৎ আকারের প্রকল্প নেওয়া যাবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ১০৫টি সোলার সারফেস সেচ এবং ৫১২টি ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালা তৈরি; ৫১২টি ডিপ সেচ প্রদর্শনী স্থাপন; ১০০টি সোলার সেচসহ পাতকুয়া খনন ও ১ হাজার ৪০টি সোলার আলোক ফাঁদ প্রদর্শনী দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে ৫১২টি সেচ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কৃষক মাঠ স্কুল, ৬১২ ব্যাচ কৃষক প্রশিক্ষণ, ২৪ ব্যাচ মেকানিক প্রশিক্ষণ, ২২ ব্যাচ কর্মকর্ত প্রশিক্ষণ, ৫০ ব্যাচ সেচ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ, ১ হাজার ১০৯টি মাঠ মসজিদ দিবস আয়োজন এবং ৪টি জাতীয় কর্মশালা করা হবে।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রদর্শনীর উপযুক্ত জমি না পাওয়ায় এবং সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় লবণাক্ত পানির ব্যাপকতা বৃদ্ধিতে প্রকল্প দলিল থেকে খুলনা মেট্রো ও কালিগঞ্জে দুটি উপজেলা বাদ দিয়ে টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী, মধুপুর, টাঙ্গাইল সদর, সখিপুর, নাগপুর ও গোপালপুর এই ছয়টি উপজেলা প্রকল্প দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া শ্যালো টিউবওয়েলের কমান্ড এরিয়ার সব জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য সেচনালা ২০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ মিটার এবং প্রকল্প এলাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালার সংখ্যা বাড়ানো হবে। ডিপ সেচ প্রদর্শনী দীর্ঘস্থায়ী ও মানসম্মত করার জন্য ৩১২টি সাবমারসিবল পাম্প ও ৩১২টি পানির ট্যাংকের স্ট্রাকচার অন্তভুর্ক্ত, মাঠ পর্যায়ের কৃষি চাহিদা বিবেচনায় ডিপ সেচ সংখ্যা ১১২টি বাড়ানো হবে। ফসলের পোকা দমনের জন্য ১ হাজার ৪০টি সোলার আলোক ফাঁদ প্রদর্শনী, সোলার প্রদর্শনীতে কিছু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি অন্তর্ভুক্তকরণসহ অন্যান্য কার্যক্রমের বছরভিত্তিক সমন্বয় করা হবে। অবশিষ্ট পূর্তকাজগুলোর ব্যয় প্রাক্কলন গণপূর্ত অধিদফরের নিজস্ব শিডিউল ২০১৪ এর পরিবর্তে বর্তমান রেইট সিডিউল ২০১৮ অনুযায়ী প্রাক্কলন এবং প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার এবং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেচ দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

Advertise