ঈদে অর্ধেক যাত্রী নিয়েই বাস চালাতে চান মালিকরা

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ঈদুল ফিতরের সময় দেশে গণপরিবহন বন্ধ রেখেছিলো সরকার। এর মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১ জুন থেকে দেশে সীমিত আকারে অর্ধেক যাত্রী ও ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে গণপরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে করোনার কারণে দূরপাল্লার বাসগুলো শুরু থেকে যাত্রী সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় বাস চলাচলের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন মালিকরা।

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহায় গণপরিবহন চলাচল করবে কিনা সে বিষয়ে অনেকেই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মালিকরা সরকারের দেওয়া সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম মেনেই ঈদে বাস চলাচলের পক্ষে।

- Advertisement -

ঈদে পরিবহন চলাচলের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করা সাকুরা পরিবহনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোজার ঈদের সময় পরিবহন বন্ধ ছিলো। তবে এখন অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করছে। এই নিয়মেই যদি কোরবানির ঈদের সময় পরিবহন চলাচল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয় তাহলে আমরা সে অনুযায়ী বাস চালাবো। এছাড়া ঈদে যাত্রী পরিবহনে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটের সেন্টমার্টিন পরিবহনের মালিক ও কুমিল্লা জেলা বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির রাইজিংবিডিকে বলেন, গত রোজার ঈদে বাস চলাচল বন্ধ ছিল, যে কারণে আমাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিলো। গত ১ জুন থেকে সীমিত যাত্রী নিয়ে পরিবহন চলাচলের নির্দেশনা দেয় সরকার। আমরাও সরকারের সব নির্দেশনা মেনেই পরিবহন চালাচ্ছি। তাই আমি বলবো ঈদুল আজহায়ও যদি এই একই নিয়মে পরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, তাহলে আমরাও বাসের সংখ্যা বাড়াবো। যেন কোনো ধরনের ঝুঁকির মুখে যাত্রীরা না পড়েন। আমাদের সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, বর্তমানে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি ও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে দেশের গণপরিবহনগুলো। আমরা চাই সরকার ঈদের সময়েও এই একই নিয়মেও যদি পরিবহন চলাচলের নির্দেশনা দেয় তাহলে আমরা সেভাবেই তা পালন করবো।

তিনি বলেন, ঈদের সময় আমরা সবাই দেখেছি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ দেখা যায়। তাই এই সময়ে করোনার ঝুঁকিও রয়েছে। তবে এ ঝুঁকি থেকে রক্ষায় আমরা বাসের সংখ্যা বাড়াবো। আমরা চাই সরকারের দেওয়া সব নির্দেশনা মেনে গাড়ি চালাতে।

এছাড়া অন্যান্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আমরা এখনো নিশ্চিত নই ঈদে পরিবহন চলাচল করবে কিনা। তবে আমরা চাই পরিবহন চলুক। করোনার কারণে দেশে লাখ লাখ পরিবহন শ্রমিক এখন অসহায় জীবন-যাপন করছেন। তাই পরিবহন চলাচল করলে এসব অসহায় শ্রমিকদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটবে। আমরা জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়েই যাত্রী পরিবহন করতে চাই।