আউশ আবাদে রেকর্ড রংপুরে

প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০
  • আবাদের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমি
  • লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ১৫ হেক্টর জমি বেশি
  • লক্ষ্য ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৮ টন চাল উৎপাদন

রংপুর অঞ্চলে বিগত ২০ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে আউশ আবাদ হয়েছে। চলতি ২০২০-২১ মৌসুমে আবাদ হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ ৬৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমি। যা লক্ষ্যমাত্রা ৫৯ হাজার ৬৭৫ হেক্টরের চেয়ে চার হাজার ১৫ হেক্টর অর্থাৎ প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।

- Advertisement -

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বরাত দিয়ে শুক্রবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০০০-০১ মৌসুমে এ অঞ্চলে আউশ আবাদ হয়েছিল ২৫ হাজার ৭৩৪ হেক্টর জমিতে, এর পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমাগত আউশ আবাদের এলাকা কমতে থাকে। ২০০৯-১০ মৌসুমে সর্বনিম্ন ১২ হাজার ৯৩৮ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হয়। ২০০৯-১০ সালের আউশ আবাদের তুলনায় এবার আবাদ হয়েছে প্রায় পাঁচগুণ বেশি।

আউশ আবাদের এলাকা বৃদ্ধির পাশাপাশি হেক্টরপ্রতি গড় ফলনও বেড়েছে— উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭-১৮ মৌসুমে হেক্টরপ্রতি চাল উৎপাদন হয়েছিল ২ দশমিক ৯৮ টন, গত ২০১৮-১৯ মৌসুমে তা বেড়ে হয়েছে হেক্টরপ্রতি ৩ দশমিক ০৪ টন। এ বছর হেক্টরপ্রতি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৩ দশমিক ০৭ টন চাল উৎপাদন হলে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা থেকে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫২৮ টন চাল চলতি আউশ মৌসুমে উৎপাদিত হবে, যা মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ৫৯ টন বেশি।

ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করে বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগিয়ে আউশ আবাদকে জনপ্রিয়করণের জন্য বর্তমান সরকারের নানা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে আউশ আবাদ ক্রমাগত বাড়ছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

‘বিগত কয়েক বছরে সরকারি প্রণোদনায় বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা, উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশ ধানের বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ ও নিবিড় মনিটরিংয়ের ফলে সেচসাশ্রয়ী আউশের আবাদে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। যথাসময়ে কৃষি উপকরণ বিতরণ করায় আবাদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এবং এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন ও উৎপাদন পাওয়া গেছে।’

চলতি মৌসুমে ২২ হাজার ৫০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে প্রত্যেক কৃষককে এক বিঘা জমির জন্য পাঁচ কেজি উফশী জাতের আউশ বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। ২৪ হাজার ৮০ জন কৃষককে পাঁচ কেজি করে বীজ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্রি ও বিনা থেকে এক হাজার ৯০০ কেজি বীজ সংগ্রহ করে বিনামূল্যে ৩৮০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জানান, এ অঞ্চলে জমির প্রায় অর্ধেক ‘বোরো-পতিত-রোপা আমন’ শস্যবিন্যাসের আওতায় রয়েছে। এই শস্য বিন্যাসের মধ্যে আউশ উপযোগী জমিকে আউশভিত্তিক তিন ফসলী জমিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলছে মাঠপর্যায়ে। এর ফলে আউশের আবাদ বৃদ্ধির সাথে সাথে এ অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বাড়বে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা এবং ব্লকপর্যায়ের কর্মকর্তাগণ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে আউশ আবাদে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে জমি তৈরিতে জৈব সার ও সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ, মানসম্পন্ন আধুনিক জাতের বীজ ব্যবহার করে আদর্শ বীজতলায় চারা উৎপাদন, সঠিক বয়সের চারা সারিতে ও সঠিক দূরত্বে রোপন, চারা রোপনে লোগোবো পদ্ধতির অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং সম্পূরক সেচ প্রদানসহ অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা যেন যথাযথভাবে নেয়া হয় তার জন্য কৃষকের সাথে সংযোগ অব্যাহত রয়েছে।